Archive for September 2013
Unheard Malalas
By : Sabbir AhmadTo celebrate Malala Day, the global community will come together to highlight the leading role that youth can play in enabling all children to get an education." While whole world celebrate "Malala day" with such holy praises, pride, honour and dignity, what is being covered is the thousands of children dying in Afghanistan even before stepping into the world of letters, what is being consciously wiped off is the hundreds of Kashmir's sons and daughters lying under the terror of being voiceless, what is being done with those numberless oppressed innocent Muslim girls all over the world is still invisible to the world.
While many stooges of the west stick around and defend Malala and her struggle, there are people recognizing the tactics and dirty play by these powers. As Sofia Ahmed, (activist and student aspiring journalist) comments, "The sight of white men in suits applauding and gushing at Malala Yusufzai's speech at the United Nations, the media frenzy and vociferous support on social media was nauseating for me." The way the "gentlemen" at UN stood for her voice and lauded was itself a play in front of the media while hundreds of Muslim girls were being bombed by those very men sitting with her that day.
Malala is no trouble for us. She exists as a growing icon and remains for a cause. But it is unfortunate that she was being staged as a product to kill many untold stories of the brutalities of the west and the globalist opportunists. And their double standards to uphold this little girl who had been a victim to Taliban, (which was the matter of more concern for them) and lauding her with courage, show no interest for any who can figure out the scripted psyop by the whites. No doubt this innocent is being exploited for their own personal interests.
Aafia siddiqui, a victim of the US, being suspected ties to Al Qaeda. The MIT graduate and former resident Aafia siddiqui was the only woman in the list. "The claim that Aafia was involved in diamond trading is another in a series of surprising, sometimes vague accusations by the government officials. In this case, the allegations have been clouded by often inaccurate, even hyperbolic descriptions of her by the media" spots The Boston magazine. To those who knew her, she was a quiet, kind, religious and educated woman of three children living normal life of Pakistani expat in Boston. To FBI, she was a suspected terrorist with link to the chief masterminds of 9/11. Aafia is a political prisoner as mentioned by Cindy Sheehan. She was tortured, evicted, physically and mentally abused and also forgotten by all the well-wishers of Malala.
"I didn't think of Iraqis as humans" says U.S soldier who raped 14 year old girl, Abeer Qasim al-Janabi before killing her and her family. Steven green while doing such a brutal murder was not even having an ounce of sympathy for the Iraqis as he was messed up badly with the death of two of his colleagues in the warzone which drove him insane. When the Mahmudiyan family was mass killed and Abeer was gang raped there was no single voice to support those innocents or any campaign!
The same was and is the case with Ishrath Jahan who was shot dead with no reason which was later found to be a fake encounter. The UPA Government still hides the truth about the real story on Ishrath Jahan. The police alleged that Ishrath and her associates were Lashkar-e-Tayiba operatives involved in a plot to kill the chief minister of Gujarat. With many unanswered questions it remained in the minds of people, but the family is still heartfelt with the loss of their daughter.
Many "malalas" grow out all over the world, but only few would be raised for their own. This occurs as the shocking waves of these are always a thread for the west to retrieve their power and get into the hands and minds of people. The conscience of the common people is always entrapped with the media. Media too, become irrelevant in bringing out the real face of justice, which reacts according to the mainstream secular liberal domain, which may count on many minor Malalas but of course forget the majority! The ones under veil remain there forever as they won't have any pushovers for their bluntness. As the senior member of Pakistan Taliban, Adnan rasheed wrote an open letter to Malala Yousafzai, asking "If you were shot [by] Americans in a drone attack, would [the] world have ever heard updates on your medical status? … Would you were called to UN? Would a Malala day be announced?"
--
- - - - - -
Warm Regards
Sabbir Ahmad
Tag :
Articles,
আমার ওভারস্মার্ট ফোন!
By : Sabbir Ahmad
লিখছেন চিরশ্রী মজুমদার।
স্মার্ট নয়,
এ একটি ওভারস্মার্ট ফোন। স্পয়েল্ট চাইল্ডের চেয়েও অবাধ্য। বেয়াদপ, বেয়াড়া, বদতমিজ,
বদমাইশ নম্বর ওয়ান। টেকনোলজির ট্রিক ফটাফট উদ্ধার করে ফেলি বলে চাপা অহংকার ছিল, নতুন
ফোন কেনার পর, ধূলিসাত্। যখন দোকানি নতুন ফোনটা ধরাল, বললাম, নতুন সেট, আনকোরা নিয়মকানুন।
বেসিকগুলো বুঝিয়ে দিন। সে লজ্জা, ব্যঙ্গ ও তুচ্ছভাব মিলিয়ে একটা মোনালিসা-স্মাইল
দিল, অলরেডি তো একটা এনট্রি লেভেল স্মার্ট হ্যান্ডসেট ব্যবহার করছিলেন, আপনাকে আর কী
বোঝাব! আধ ঘণ্টা হাত বোলাবেন, ব্যস, এ ফোন আপনার কেনা গোলাম। স্মার্টফোন আলাদিনের জিন।
যা চাই অ্যাপ্লিকেশন স্টোরে গিয়ে হুকুম করবেন, ভাল রেস্তরাঁর খোঁজ, ফিল্মের টিকিট,
স্ক্যানিং মেশিন, চোর ধরার যন্ত্র-পুলিশ, হাজির করে দেবে।
প্রথমেই সে ফোন পকেটে ঢুকল না। পকেটের জানলা থেকে বেরিয়ে নিজের চকচকে চেহারা আধখানা দেখিয়ে দেখিয়ে চোরেদের নেমন্তন্ন করতে লাগল, এই দ্যাখ্ বড় ফোন দামি ফোন, আয় আয় নিয়ে যা। সতর্ক চোখে পকেট চেপে বাড়ি ফিরতেই বুঝলাম, আশঙ্কা সত্যি হয়েছে। ফোন পালটাতে গিয়ে আমার জীবন বদলে গেছে।
সব ফোন নম্বর তো আগের হ্যান্ডসেটে ফেলে এসেছি। সেই পুরনো ফোনও হনুমানবিশেষ ছিল। নম্বর সেভ করতে গেলেই ভুরু কুঁচকে কৈফিয়ত তলব করত, কোত্থেকে চিনলে একে? তাতে আমি খাবি খেয়ে উত্তর দিলে, সে বুঝেসুঝে বিজনেস, ফ্রেন্ড, ক্লোজ ফ্রেন্ড, অ্যাকোয়েন্টেন্স এ সব আলাদা আলাদা বাক্সে নাম ও নম্বর তুলে গুছিয়ে রাখত। সে সব বাক্স তো পুরনো ফোনেই রয়ে গেছে।
তাকে ফের চালু করে নম্বর খুঁজতে গেলে আবার বেজায় অহংকারী নতুন ফোনটা থেকে সিম খুলতে হবে। কী জ্বালা। কিছু ক্ষণেই বুঝলাম একে শুধু জ্বালা নয়, জ্বালা গাট্টা কিংবা জ্বালাময়ী গাট্টা জাতীয় কিছু বলা উচিত। নতুন ফোনের মেটাল বডি, সে পুরো আয়রনম্যান। তার ওপরে দোকানি তাকে কভার না বডিস্যুট কী একটা পরিয়ে দিয়েছে। সে সব ভেদ করে কলকব্জা খুলে সিম বার করতে গিয়ে নেলপালিশ চটে, নখ ভেঙে ছাল উঠে মাংস খুবলে যাওয়ার উপক্রম। তবু এই স্মার্টফোন কোন গুপ্তকুঠুরিতে সিমটি লুকিয়েছে, হদিশ পেলাম না। অতএব রণে ভঙ্গ দিয়ে ভগবানের হাতে সব ছেড়ে বসে রইলাম।
ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরই বা কী করবেন? পৃথিবী তো চালাচ্ছে আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড আর উইন্ডোজ। তাদের আদেশে আমার ফোন বা মেসেজ এলে কী সব কোম্পানি অ্যান্থেম বাজছে। ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড। ফলে আমি এত ক্ষণ যে গমগমে আওয়াজটাকে টিভির এইচ ডি চ্যানেলের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ভেবে অ্যাপ্রিশিয়েট করছিলাম, সেটা নাকি আসলে আমার ফোন থেকে আসছিল! সব আননোন নম্বর। মেসেজও এসেছে, কাজের কথাও লেখা তাতে, কিন্তু কে লিখেছে সে তো টেকনো-ঈশ্বরই জানেন। আমার বর্তমান দেউলিয়া অবস্থা জানিয়ে মেসেজ ব্যাক করতে গেলাম, অবশ্যই পারলাম না। শেষে কনট্যাক্ট লিস্ট খুঁজে দেখতে গেলাম, আদৌ কারও নম্বর কি এই ফোনে উঠেছে? ও বাবা, সে আমাকে যা লিস্ট দেখাল রাস্তায় পাতলে বাগবাজার টু বাঁশদ্রোণী চলে যাওয়া যাবে। আমি যাদের চিনি, যাদের প্রতি মুহূর্তে প্রয়োজন হয়, ঠিক তারা ছাড়া বিশ্বসুদ্ধ সকলের ইমেল আইডি আর ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট আমার কনট্যাক্ট লিস্টে জ্বলজ্বল করছে।
প্রথমেই সে ফোন পকেটে ঢুকল না। পকেটের জানলা থেকে বেরিয়ে নিজের চকচকে চেহারা আধখানা দেখিয়ে দেখিয়ে চোরেদের নেমন্তন্ন করতে লাগল, এই দ্যাখ্ বড় ফোন দামি ফোন, আয় আয় নিয়ে যা। সতর্ক চোখে পকেট চেপে বাড়ি ফিরতেই বুঝলাম, আশঙ্কা সত্যি হয়েছে। ফোন পালটাতে গিয়ে আমার জীবন বদলে গেছে।
সব ফোন নম্বর তো আগের হ্যান্ডসেটে ফেলে এসেছি। সেই পুরনো ফোনও হনুমানবিশেষ ছিল। নম্বর সেভ করতে গেলেই ভুরু কুঁচকে কৈফিয়ত তলব করত, কোত্থেকে চিনলে একে? তাতে আমি খাবি খেয়ে উত্তর দিলে, সে বুঝেসুঝে বিজনেস, ফ্রেন্ড, ক্লোজ ফ্রেন্ড, অ্যাকোয়েন্টেন্স এ সব আলাদা আলাদা বাক্সে নাম ও নম্বর তুলে গুছিয়ে রাখত। সে সব বাক্স তো পুরনো ফোনেই রয়ে গেছে।
তাকে ফের চালু করে নম্বর খুঁজতে গেলে আবার বেজায় অহংকারী নতুন ফোনটা থেকে সিম খুলতে হবে। কী জ্বালা। কিছু ক্ষণেই বুঝলাম একে শুধু জ্বালা নয়, জ্বালা গাট্টা কিংবা জ্বালাময়ী গাট্টা জাতীয় কিছু বলা উচিত। নতুন ফোনের মেটাল বডি, সে পুরো আয়রনম্যান। তার ওপরে দোকানি তাকে কভার না বডিস্যুট কী একটা পরিয়ে দিয়েছে। সে সব ভেদ করে কলকব্জা খুলে সিম বার করতে গিয়ে নেলপালিশ চটে, নখ ভেঙে ছাল উঠে মাংস খুবলে যাওয়ার উপক্রম। তবু এই স্মার্টফোন কোন গুপ্তকুঠুরিতে সিমটি লুকিয়েছে, হদিশ পেলাম না। অতএব রণে ভঙ্গ দিয়ে ভগবানের হাতে সব ছেড়ে বসে রইলাম।
ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরই বা কী করবেন? পৃথিবী তো চালাচ্ছে আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড আর উইন্ডোজ। তাদের আদেশে আমার ফোন বা মেসেজ এলে কী সব কোম্পানি অ্যান্থেম বাজছে। ডলবি ডিজিটাল সাউন্ড। ফলে আমি এত ক্ষণ যে গমগমে আওয়াজটাকে টিভির এইচ ডি চ্যানেলের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ভেবে অ্যাপ্রিশিয়েট করছিলাম, সেটা নাকি আসলে আমার ফোন থেকে আসছিল! সব আননোন নম্বর। মেসেজও এসেছে, কাজের কথাও লেখা তাতে, কিন্তু কে লিখেছে সে তো টেকনো-ঈশ্বরই জানেন। আমার বর্তমান দেউলিয়া অবস্থা জানিয়ে মেসেজ ব্যাক করতে গেলাম, অবশ্যই পারলাম না। শেষে কনট্যাক্ট লিস্ট খুঁজে দেখতে গেলাম, আদৌ কারও নম্বর কি এই ফোনে উঠেছে? ও বাবা, সে আমাকে যা লিস্ট দেখাল রাস্তায় পাতলে বাগবাজার টু বাঁশদ্রোণী চলে যাওয়া যাবে। আমি যাদের চিনি, যাদের প্রতি মুহূর্তে প্রয়োজন হয়, ঠিক তারা ছাড়া বিশ্বসুদ্ধ সকলের ইমেল আইডি আর ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট আমার কনট্যাক্ট লিস্টে জ্বলজ্বল করছে।
এই ধাক্কা সামলাতে
না সামলাতে খেল দেখাল মেসেজিং অ্যাপ। যাকেই মেসেজ পাঠাতে যাই ফস করে জিজ্ঞেস করে, তুমি
কি এর সঙ্গে ভবিষ্যতে চ্যাট করতে চাও? বেখেয়াল হয়ে হ্যাঁ বললেই, গেল। এর পর যাকে
যখনই এসএমএস করতে বসছি ও বুরাতিনোর থেকেও লম্বা নাক গলাচ্ছে। তুমি কি অমুকের সঙ্গে
চ্যাট করবে? এ সবে বুদ্ধিশুদ্ধি গুবলেট হয়ে মাথা নেড়ে ফেললেই খতম। সেকেন্ডের ভগ্নাংশে
কিছু ভাবার কিছু করার সুযোগ না দিয়ে এ-র মেসেজ বি-কে পাঠিয়ে, এর কথা ওকে বলে দিয়ে
কেলোর কীর্তি বাঁধিয়ে চলে আসবে।
এসএমএস এ হামেশাই নিজে নিজে লোকজনকে পাঠিয়ে দেয়। আর আমি একটু এসএমএস করতে চাইলেই প্রবল অসহযোগিতা করে। অক্ষর বসাতে গেলে সব সময়ই কী এক আশ্চর্য কায়দায় পাশের অক্ষরটা লিখে দেয়। টাচ ফোন কিনলে নাকি নখ মুড়িয়ে রাখতে হয়। নইলে পদে পদে ভুল অক্ষরে আঙুল বসবে, লক্ষ লক্ষ টাইপো হবে, অমনি সবজান্তা ফোন নিজে থেকে ডিকশনারি খুলে ভুল ধরবে। ফোন করতে গেলে আর এক মারাত্মক টাচি ব্যাপার। ক্ষণে ক্ষণে ফোন হোল্ডে, নয়তো গুরুত্বপূর্ণ লোকের মুখের ওপর দড়াম করে বন্ধ। কান লেগে গেছে স্ক্রিনের টাচ অপশনে। যাব্বাবা! তা হলে কি টাচফোন কিনলে কান থেকে এক হাত দূরে সরিয়ে কথা বলব?
তার পর অনুভব করলাম, পৃথিবীর ষষ্ঠ মহাসমুদ্রটি ঘোষণা করার সময় এসে গিয়েছে। অ্যাপস্ ওশন। বাড়ি থেকে বেরোনো মাত্র দিব্যচক্ষে সে কোথায় জ্যাম কোথায় জেলি দেখে জানিয়ে দেয়। শুধু মাঝেমধ্যে কলকাতার বদলে কোপেনহেগেনের রাস্তা দেখাবে কি না কেন যে জিজ্ঞেস করে বুঝতে পারি না। কখনও চিড়িয়াখানা দেখায়, কখনও ডায়েরি লিখতে পরামর্শ দেয়, কখনও ফোনটাকে টেলিস্কোপ বানানোর দরকার আছে কি না জানতে চায়। অফিসে বাসে ট্রামে শ্মশানে আদালতে যেখানেই থাকি আমাকে ঘিরে স্যাটেলাইটের মতো প্রদক্ষিণ করে জিমেল, ইয়াহু, গুগ্ল প্লাস, ফেসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, লাইন্স, উই চ্যাট এবং না জানি আরও কারা কারা! যা খুশি তাই ছবি তোলার কোনও অধিকার নেই আমার। সব সময় টিপটপ পারফেক্ট ছবি তুলতে হবে। কারণ ছবি তোলামাত্র ফোন বলে, সে ওগুলো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে দিতে চায়। সারা ক্ষণ আমাকে খাটানোর প্ল্যান। মিক্সিং মেশিন ধরিয়ে বলে গান বাছো আর তাকে নিজের মতো রিমিক্স করো। তোমার হোমওয়ার্ক। সিনেমা, গান, বইয়ের লাইব্রেরি সবাই মিলে ব্রেনের বাইরে লাইন দেয়। কে আগে ঢুকবে! সকালে স্ক্রিন চেক করতে গেলেই বুকে দমাদ্দম হাতুড়ি। রোমিং মোড অন করবে কি না জানতে চাইছে। বিশাল একটা ঘড়ি আর এক তাড়া শহরের নাম দেখায়। ‘এগুলোর কোথাও যাচ্ছ নাকি আজ? হ্যাভ আ লাভলি ট্রিপ। কোথায় যাচ্ছ বলো, ডুয়াল ক্লক সেট করব।’
এখন বাইরে পাখি ডাকলে আমি মোবাইল দেখতে ছুটি। সেটাকেও এই শয়তান যন্ত্র চুরি করে নিজের নোটিফিকেশন সাউন্ড বানিয়েছে। এক সপ্তাহ ফোন ব্যবহার করেই এক ধাক্কায় ব্যালেন্স এক হাজার টাকা কমে গেল। খোঁজ করে জানা গেল, অ্যাপ্স ফ্রি ভেবে যত খুশি ডাউনলোড করেছি, তার পর তার আপডেটেড ভার্শন-এর রিকোয়েস্ট এসেছে। লোভে পড়ে হ্যাঁ বলেছি আর তখনই প্রাণের সুখে টাকা কেটেছে। তা ছাড়া অ্যাপ্লিকেশনের সাইড এফেক্টসে ফোনের হিস্ট্রি জিয়োগ্রাফিও বদলে গেছে। সে শুধু চেঁচিয়েছে, ‘এই চার্জ দাও চার্জ দাও। এত অ্যাপস্ ঘাঁটলে চার্জার সঙ্গে নিয়ে ঘুরবে। আমার ঘন ঘন ইলেকট্রিকের খিদে পায়।’ এ দিকে টাকা যে কাটছে, সিস্টেম যে বদলাচ্ছে সে সব বলার প্রয়োজনও বোধ করেনি।
তা কেন বলবে? আমার ফোন তো নয়, আসলে তো ফোনের আমি। প্রথম মোবাইল ছিল আমার টিন-এজের খেলনা, এখন বড় হয়ে আমিই এই স্মার্টফোনের খেলনা। যা চলছে, ক’দিন পরেই নতুন একটা অ্যাপ আসবে আর এই নির্বুদ্ধি ও সর্বশক্তিধর ফোন তার মধ্যে আমাকে পুরে ওএলএক্স-এ বেচে দিয়ে আসবে। তার পর আমারই বাড়িতে আমার ফোন নিজে থেকে রজনীকান্তের সুপারহিট গান চালাবে। সেই যে, বুম বুম রোবটা!!!!
এসএমএস এ হামেশাই নিজে নিজে লোকজনকে পাঠিয়ে দেয়। আর আমি একটু এসএমএস করতে চাইলেই প্রবল অসহযোগিতা করে। অক্ষর বসাতে গেলে সব সময়ই কী এক আশ্চর্য কায়দায় পাশের অক্ষরটা লিখে দেয়। টাচ ফোন কিনলে নাকি নখ মুড়িয়ে রাখতে হয়। নইলে পদে পদে ভুল অক্ষরে আঙুল বসবে, লক্ষ লক্ষ টাইপো হবে, অমনি সবজান্তা ফোন নিজে থেকে ডিকশনারি খুলে ভুল ধরবে। ফোন করতে গেলে আর এক মারাত্মক টাচি ব্যাপার। ক্ষণে ক্ষণে ফোন হোল্ডে, নয়তো গুরুত্বপূর্ণ লোকের মুখের ওপর দড়াম করে বন্ধ। কান লেগে গেছে স্ক্রিনের টাচ অপশনে। যাব্বাবা! তা হলে কি টাচফোন কিনলে কান থেকে এক হাত দূরে সরিয়ে কথা বলব?
তার পর অনুভব করলাম, পৃথিবীর ষষ্ঠ মহাসমুদ্রটি ঘোষণা করার সময় এসে গিয়েছে। অ্যাপস্ ওশন। বাড়ি থেকে বেরোনো মাত্র দিব্যচক্ষে সে কোথায় জ্যাম কোথায় জেলি দেখে জানিয়ে দেয়। শুধু মাঝেমধ্যে কলকাতার বদলে কোপেনহেগেনের রাস্তা দেখাবে কি না কেন যে জিজ্ঞেস করে বুঝতে পারি না। কখনও চিড়িয়াখানা দেখায়, কখনও ডায়েরি লিখতে পরামর্শ দেয়, কখনও ফোনটাকে টেলিস্কোপ বানানোর দরকার আছে কি না জানতে চায়। অফিসে বাসে ট্রামে শ্মশানে আদালতে যেখানেই থাকি আমাকে ঘিরে স্যাটেলাইটের মতো প্রদক্ষিণ করে জিমেল, ইয়াহু, গুগ্ল প্লাস, ফেসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, লাইন্স, উই চ্যাট এবং না জানি আরও কারা কারা! যা খুশি তাই ছবি তোলার কোনও অধিকার নেই আমার। সব সময় টিপটপ পারফেক্ট ছবি তুলতে হবে। কারণ ছবি তোলামাত্র ফোন বলে, সে ওগুলো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে দিতে চায়। সারা ক্ষণ আমাকে খাটানোর প্ল্যান। মিক্সিং মেশিন ধরিয়ে বলে গান বাছো আর তাকে নিজের মতো রিমিক্স করো। তোমার হোমওয়ার্ক। সিনেমা, গান, বইয়ের লাইব্রেরি সবাই মিলে ব্রেনের বাইরে লাইন দেয়। কে আগে ঢুকবে! সকালে স্ক্রিন চেক করতে গেলেই বুকে দমাদ্দম হাতুড়ি। রোমিং মোড অন করবে কি না জানতে চাইছে। বিশাল একটা ঘড়ি আর এক তাড়া শহরের নাম দেখায়। ‘এগুলোর কোথাও যাচ্ছ নাকি আজ? হ্যাভ আ লাভলি ট্রিপ। কোথায় যাচ্ছ বলো, ডুয়াল ক্লক সেট করব।’
এখন বাইরে পাখি ডাকলে আমি মোবাইল দেখতে ছুটি। সেটাকেও এই শয়তান যন্ত্র চুরি করে নিজের নোটিফিকেশন সাউন্ড বানিয়েছে। এক সপ্তাহ ফোন ব্যবহার করেই এক ধাক্কায় ব্যালেন্স এক হাজার টাকা কমে গেল। খোঁজ করে জানা গেল, অ্যাপ্স ফ্রি ভেবে যত খুশি ডাউনলোড করেছি, তার পর তার আপডেটেড ভার্শন-এর রিকোয়েস্ট এসেছে। লোভে পড়ে হ্যাঁ বলেছি আর তখনই প্রাণের সুখে টাকা কেটেছে। তা ছাড়া অ্যাপ্লিকেশনের সাইড এফেক্টসে ফোনের হিস্ট্রি জিয়োগ্রাফিও বদলে গেছে। সে শুধু চেঁচিয়েছে, ‘এই চার্জ দাও চার্জ দাও। এত অ্যাপস্ ঘাঁটলে চার্জার সঙ্গে নিয়ে ঘুরবে। আমার ঘন ঘন ইলেকট্রিকের খিদে পায়।’ এ দিকে টাকা যে কাটছে, সিস্টেম যে বদলাচ্ছে সে সব বলার প্রয়োজনও বোধ করেনি।
তা কেন বলবে? আমার ফোন তো নয়, আসলে তো ফোনের আমি। প্রথম মোবাইল ছিল আমার টিন-এজের খেলনা, এখন বড় হয়ে আমিই এই স্মার্টফোনের খেলনা। যা চলছে, ক’দিন পরেই নতুন একটা অ্যাপ আসবে আর এই নির্বুদ্ধি ও সর্বশক্তিধর ফোন তার মধ্যে আমাকে পুরে ওএলএক্স-এ বেচে দিয়ে আসবে। তার পর আমারই বাড়িতে আমার ফোন নিজে থেকে রজনীকান্তের সুপারহিট গান চালাবে। সেই যে, বুম বুম রোবটা!!!!
Tag :
Articles,
Uncategorize,
পশ্চিমি বিশ্ব এবং তার সঙ্গীরা কার্যত দর্শক আরবে গণতন্ত্র রুখতেই মিশরে রক্তপাত ?
By : Sabbir Ahmad‘মুসলিম ব্রাদারহুড ’ মানেই ধর্মীয় গোঁড়ামি ? সাম্প্রতিক তথ্য কিন্ত্ত অন্য কথা বলছে৷ ---------লিখছেনশাহনওয়াজ আলি রায়হান
পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে প্রতি দিন পাঁচ ওয়াক্ত নমাজ হয়৷ ব্যতিক্রম এই মূহূর্তের মিশর৷ এখন সেখানে অনেককেই ছয় ওয়াক্ত নমাজে শরীক হতে হচ্ছে৷ অতিরিক্ত নমাজটি জানাজার , সাদা কাফনে মোড়া সারিবদ্ধ নিথর দেহগুলিকে সামনে রেখে ! আর যাঁরা গুলির শিকার হওয়া থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন ? যাঁরা এত সবের পরও গণতন্ত্রের পক্ষে ? মিশরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোনও মতেই সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বরদাস্ত করতে নারাজ ? রাবা -আল -আদাইয়া , রামেসিস স্কোয়্যারের হত্যাকাণ্ডের পরও দমানো যায়নি এঁদের৷ বাহুতে নাম লিখে আবার সামিল হয়েছেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে৷ নামটা লিখে রাখার কারণ হল , সেনার আক্রমণে প্রাণ হারালে মৃতদেহর স্তপ থেকে দেহগুলো সনাক্ত করা যাতে সহজ হয়৷ ১৪ অগস্ট কায়রোর রাবা -আল -আদাইয়া , আন -নাহাদা , হেলওয়ান প্রভৃতি স্থানে মিশরবাসীর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক ঢুকিয়ে দিয়ে যে নির্মম হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে , তাতে মোট কত জন প্রাণ হারিয়েছেন সেই সংখ্যাটা নিয়ে গণমাধ্যমগুলি এখনও একমত নয়৷ সেনার হিসেব অনুযায়ী ৫২৫ , বিভিন্ন সংবাদপত্রে ৮০০ -৯০০ , মুসলিম ব্রাদারহুডের দাবি নিহত দুই সহস্রাধিক এবং আহত প্রায় তিন হাজার৷ তিয়েনানমেন স্কোয়্যারের সেই নাম না জানা ‘ট্যাঙ্ক-ম্যান ’কে স্মরণ করিয়ে দেওয়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে , মিশরিয় সেনার ট্যাঙ্কের সামনে দুই হাত মাথার উপর তোলা সত্ত্বেও গুলি খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল এক যুবক৷ সে বেঁচে গেল না মারা গেল , সে সব আর জানা যায় না ভিডিওটিতে৷ তবে যা জানা যাচ্ছে , তাতে নিহতদের মধ্যে আসমা বেলতাগির মতো প্রতি ক্লাসে প্রথম হওয়া তরুণীও যেমন ছিলেন , তেমনই আসেম -আল -গামালের মতো যুব শিল্পদ্যোগী , বা জাতীয় ফুটবল দলের সামি আদাওয়েরও মৃত্যু হয়েছে৷ আর মারা গিয়েছেন বেশ কিছু সাংবাদিক৷
এ ছাড়াও মারা গেলেন এমন অসংখ্য সাধারণ মানুষ , যাঁদের নিরলস প্রচেষ্টার ফসল ছিল মিশরে আরব বসন্তের আগমন৷ তেহরির স্কোয়ারে যে দিন তিন দশকের স্বৈরাচারী শাসক হোসনি মুবারকের পতন চেয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন , সে দিন যেমন এঁরা কেউ -ই সন্ত্রাসের তালিমপ্রান্ত ছিলেন না , তেমনই জীবনের শেষ দিনও এঁদের কারও হাতে কোনও অস্ত্র ছিল না৷ তার পরও আক্রমণের পেছনে মিশরিয় সেনার যুক্তি ছিল , বিক্ষোভকারীরা অস্ত্রে সজ্জিত থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে ট্যাঙ্ক নামাতে তারা ‘বাধ্য ’ হয় ! সেনার দাবি সত্য হলে প্রশ্ন হল , মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী জেনেও সেনাদের উদ্দেশে গুলি চালাতে দেখা যায়নি কেন কোনও বিক্ষোভকারীকে ? আধুনিক মিশরের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান মহম্মদ মুরসিকে ৩ জুলাই কী ভাবে অপসারিত করে মিশরিয় সেনা ? ৩০ জুন মুরসির সরকারের এক বছর পূর্তির দিন থেকে মিশরে শুরু হয় তামার্রুদ (বিদ্রোহ ) নামক মুরসি -বিরোধী আন্দোলন৷ এই আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল , যেহেতু দেশের বেহাল অর্থনীতিকে সামলাতে মহম্মদ মুরসির সরকার ব্যর্থ, অতএব তাঁদের ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়া উচিত৷ সঙ্গে চলতে থাকে ‘শরিয়তি আইন ’, ‘ইসলামি রাষ্ট্র ’, ‘কপ্টিক সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন ’ প্রভৃতি জুজু দেখিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মুরসিবিরোধী ভাবমূর্তি নির্মাণের প্রচেষ্টা৷ ছয় দশক সামরিক শাসন , একনায়কতন্ত্রের শিকার একটি দেশের অর্থনীতিকে ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যেই কেউ কোন যাদুতে উত্কর্ষে নিয়ে যেতে পারে , সে ব্যাখ্যা তামার্রুদ দিতে পারেনি৷ বিনিময়ে যেটা করেছে , কিছু মুবারক জামানার মার্কিন -ইজরায়েলপন্থী মিশরিয় পুিঁজপতি , সেনাকর্তাদের একত্রিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে৷ এদের উপর মার্কিন আর্শীবাদের প্রচ্ছন্ন হাত থাকলেও , প্রকট হচ্ছে ইজরায়েল ও সৌদি আরবের সমর্থন৷
ইজরায়েল সর্বদাই সাইনাইয়ের অপর প্রান্তে এমন একটি রাষ্ট্রপ্রধান চেয়ে এসেছে যে সাদাত -মুবারকের মতো মার্কিন সুরে সুর মেলাবে , প্যালেস্টাইনে জায়নবাদী আগ্রাসনের বিরোধিতা করবে না৷ অপর দিকে সৌদি রাজপরিবারও কখনই চায় না যে , আরব বিশ্বের কোথাও , বিশেষ করে সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ মিশরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক৷ কারণ এমনটা হলে সেই ঢেউ আছড়ে পড়বে লোহিত সাগরের পূর্বপ্রান্তে ঊষর মরুর ধূসর বুকে৷
আর আমেরিকা ? ইসলাম ও আধুনিকতা --- কোথাও রাজতন্ত্রের মূল্য নেই৷ নেই বাক -স্বাধীনতা রোধেরও৷ বা রাজনীতিকে বিরোধীশূন্য করার৷ অথচ এ সব কিছুই এত দিন করে এসেছে আরব বিশ্বের আমীর -ওমরাহরা৷ নারীদের অন্তঃপুরে ভরে রাখতে , সংখ্যালঘুদের ইসলাম যে মর্যাদার চোখে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাঁদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবেই দেখতে চায়৷ গোটা পৃথিবীতে এহেন অপব্যাখ্যার শিকার ‘ইসলামি ’ মতবাদকে চাপিয়ে দেওয়ার জন্য সৌদি রাজপরিবারের বিরুদ্ধে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালার অভিযোগ ওঠে৷ এরাই মিশরের কট্টরপন্থী সালাফি রাজনৈতিক দল আন -নুরের পৃষ্ঠপোষক৷ গত ৩ জুলাই টিভিতে সেনাপ্রধান আব্দেল ফাতাহ আল -সিসির মুরসিকে অপসারণের ঘোষণার মুহূর্তটি থেকে ১৪ অগস্টের হত্যাকাণ্ড --- এই আন -নুর পার্টি নেতৃবৃন্দ কিন্ত্ত সদাসর্বদা সেনাবাহিনীর সমর্থক৷ এই সব রাজপরিবার , সেনাবাহিনী , ধর্মান্ধদের সঙ্গে নিয়ে চলতে বিশ্ব জুড়ে গণতন্ত্রের ‘রক্ষক ’ আমেরিকার কোনও বাধানিষেধ নেই৷ যত সমস্যা মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো দলগুলিকে নিয়েই ? ৩ জুলাই একজন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত শাসক , সেনাপ্রধান দ্বারা অনৈতিক ভাবে উত্খাত হওয়ার ঘটনার যদি লোক দেখানো সমালোচনার পরিবর্তে প্রকৃত বিরোধিতা করত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , রাষ্ট্রপুঞ্জ, তবে হয়তো আজ মিশরকে এই হত্যাকাণ্ড দেখতে হত না৷ আর পৃথিবীর সর্ববৃহত্ গণতন্ত্র ? ভারতবাসী ভুলেই গিয়েছে শেষ কবে নিজের দেশের সরকারকে কোনও আন্তজার্তিক সমস্যায় সোচ্চার হতে দেখেছে ! এমনকী অতীতের ভিয়েতনাম বা হালের শাহবাগ ইস্যুতে সোচ্চার কলকাতাবাসীকেও নীরব দেখা গেল সমগ্র মিশরকাণ্ডে৷ মিশরের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ১৯ অগস্টের মহসিন স্কোয়্যার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মুসলিম সংগঠনগুলির পদযাত্রাটি তাই ‘ওদের কিছু একটা হচ্ছে ’ হয়েই থেকে গেল সংখ্যাগরিষ্ঠের কাছে ! এর আগেও ১৯৯১ সালে আলজেরিয়ায় নির্বাচনে জয়লাভের পরও সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসতে দেয়নি আব্বাসি মাদানির ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্টকে৷
তাঁদের নেতৃবৃন্দকে আটক করে৷ সে সময় একই পরিণতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল তিউনিসিয়ার ইসলামি পার্টি আন -নাহাদা প্রধান রশিদ -আল -গান্নুশিকে৷ অথবা তুরস্কের ইসলামপন্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দিন আরবাকানকে৷ এঁরা সবাই কিন্ত্ত গণতন্ত্রে বিশ্বাসী , সন্ত্রাসে নয়৷ আর এটাই হল পাশ্চাত্যের মাথাব্যথার বড়ো কারণ৷ সৌদিরা যখন নারীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স পর্যন্ত দিতে নারাজ , তখন এই উদার ও মধ্যমপন্থী ইসলামি দলগুলি মহিলাদের ভোটে জিতিয়ে সংসদে পাঠায়৷ ইয়েমেনে এঁদেরই দলের এক নারী তাওয়াক্কুল কারমান শান্তির জন্য নোবেল পায়৷ এই সব দল ভোটে জিতলে অমুসলিমদের ক্যাবিনেটে জায়গা দেয়৷ যেমন মুরসির সরকারের বিজ্ঞান গবেষণা মন্ত্রী নাদিয়া জাখারি একাধারে নারী আবার কপ্টিক খ্রিস্টান৷ চলতি মাসে সেনা আক্রমণের সময় মুসলিম ব্রাদারহুড সদস্যদের চার্চ পাহারা দিতেও দেখা গিয়েছে৷ আবার তেহরির স্কোয়্যারে এই খ্রিস্টানদেরই বছর দু’য়েক আগে নমাজের সময় ব্রাদ্রারহুড সদস্যদের মুবারক সেনার হাত থেকে বাঁচাতে পাহারা দিতে দেখা গিয়েছিল৷ এই কপ্ট-ব্রাদার সম্পর্ক মোটেও ভালো চোখে দেখেনি আমেরিকা৷ তাই গণমাধ্যমে পুরো অন্য ছবি তুলে ধরেছে৷ মুরসির দল তালিবান বা সালাফিদের ধর্মীয় কঠোরতাকে সমালোচনা করে৷ মুসলিম ব্রাদারহুডের এক তাত্ত্বিক নেতা ইউসুফ আল -কারজাভির একটি বিখ্যাত উক্তি হল , ‘যে বলে ইসলাম ও গণতন্ত্র পরস্পরবিরোধী , সে না তো ইসলামকে বোঝে , না গণতন্ত্রকে৷ ’ মুরসি , আরবাকান বা গান্নুশি ---সবাই কিন্ত্ত পাশ্চাত্যে পড়াশোনা করেছেন৷ কোট -প্যান্ট , টাইয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য৷ তার পরও বেছে নেননি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের তাঁবেদারি বা ধর্মীয় গোঁড়ামির পথকে৷ এটাই তাঁদের জনপ্রিয়তার বড়ো কারণ৷ পাশ্চাত্য এবং তাঁদের আরব সঙ্গীরা খ্রিস্টান বিশ্বের ‘সেক্যুলার মডার্নিটি’-র এই বিকল্পটিকে তাই ঠেকাতে মরিয়া৷ কখনও গণমাধ্যম দিয়ে , কখনও সেনা অভ্যুত্থান বা রাজতন্ত্র৷ দখলের লড়াইয়ে কে জেতে এখন সেটাই দেখার !
Source: Ei Samay
Tag :
Articles,
Uncategorize,




